-->

Breaking News

পুরনো মিরাজের নতুন সূচনা

নিলয় স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়া কাপের বাজে পারফরম্যান্স, সবশেষ ঘরের মাঠে নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ হার, বিশ্বকাপ দল থেকে তামিমের বাদ পড়া, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলে অন্তর্ভুক্তি সহ নানা ইস্যু নিয়ে সরগরম ছিলো ক্রিকেট পাড়া৷ নানা তর্ক-বিতর্ক ছিলো বাংলাদেশ জাতীয় দল নির্বাচন নিয়েও। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের চাপ মাথায় নিয়েই বিশ্বকাপে যায় সাকিব বাহিনী। তাই বিশ্বকাপে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স কেমন হবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয় ক্রিকেট সমর্থকদের মনে। তবে সকল ধোঁয়াশা দূর করে ভারত বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো লাল সবুজ প্রতিনিধিরা। 

আফগানদের হারানোর ম্যাচে ব্যাটে বলে অসাধারণ পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন দলের তারকা খেলোয়াড় মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাট হাতে ৫৭ আর বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেট শিকার করে দশম বাংলাদেশী হয়ে বিশ্বকাপে ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও জিতে নিয়েছেন তিনি। বোলিং মিরাজ জাতীয় দলে তারকা হয়েছেন বহু আগেই। অভিষেক ম্যাচ থেকে আট নম্বরে ব্যাটিং করায় ব্যাট হাতে নিজেকে মেলে ধরার খুব একটা সুযোগ পাননি ডানহাতি এ ব্যাটার। তাই ব্যাটিং মিরাজের অভাব ছিলো সমর্থকদের মনে। দলের প্রয়োজনে নানা পজিশনে ব্যাট করে সেটা ও ধীরে ধীরে পূরণ করে জাতীয় দলের কার্যকরী অলরাউন্ডার হয়ে উঠলেন মিরাজ। ডান হাতি এ অলরাউন্ডারের একক নৈপুণ্যে এখন ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ। দলের বিপদে কখনো ব্যাট হাতে আবার কখনো বল হাতে দলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়ে যান তিনি। তাই বলা যায় এ যেনো পুরনো মিরাজের নতুন সূচনা।

২০১৬ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে  টুর্নামেন্ট সেরার পুরষ্কার জিতেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের এমন নৈপুণ্য চোখ এড়ায়নি জাতীয় দলের নির্বাচকদের। পরের বছরেই জাতীয় দলে নিয়ে আসেন তাকে। ২০ অক্টোবর ২০১৬ ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রিকেটের বনেদী ফরম্যাট টেস্টে অভিষেক হয় এ অলরাউন্ডারের। অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট শিকার করে নিজের জাত ছিনিয়েছিলেন ক্রিকেট বিশ্বকে। সাদা পোশাকে সমান পারফরম্যান্স করা এ ক্রিকেটার ৩৯ টেস্টে বল হাতে শিকার করেছেন ১৫১ উইকেট। যার মধ্যে দশ উইকেট নিয়েছেন দুবার এবং ৫ উইকেট শিকার করেছেন নয় টেস্টে। ব্যাট হাতে  ১ সেঞ্চুরির ও ৫ অর্ধশতকের সাহায্যে করেছেন ১২৪৫ রান।

সাদা পোশাকে এমন পারফরম্যান্স মিরাজকে নিয়ে আসে লাল-সবুজ জার্সিতে। একই বছরের আফগানদের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে ডাক পান মিরাজ। তবে আফগানদের বিপক্ষে ডাক পেলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি খুলনায় জন্মগ্রহণ করা এ ক্রিকেটারের। রঙ্গিন পোশাকে খেলতে অপেক্ষা করতে হয় কয়েক মাস। অবশেষে ২০১৭ সালের ২৫ শে মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের মাটিতেই ওয়ানডেতে অভিষেক হয় নিপুণ এ ক্রিকেটারের। অভিষেক ম্যাচে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও বল হাতে আরও একবার নিজের জাত চেনান মিরাজ। মাত্র ৪.৩০ ইকোনমিতে বল করে দশ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে শিকার করেছেন দুই উইকেট। সে থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি এ ক্রিকেটারকে। এখন পর্যন্ত একদিনের ক্রিকেটে লাল সবুজ জার্সিতে ৮৩ ম্যাচ খেলেছেন মিরাজ। বল হাতে চারবার চার উইকেট শিকার করা মিরাজের ঝুলিতে মোট ৯৪ উইকেট। সিনিয়রদের ছায়ায় থাকায় ব্যাট হাতে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৫৬ ইনিংস। যার মধ্যে দশ ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন অভিজ্ঞ এ ব্যাটার। ২৩.৯৭ গড়ে মিরাজের ব্যাট থেকে দল পেয়েছে ১১০৩ রান। এ ব্যাটারের দুইটি শতকের সঙ্গে রয়েছে তিনটি অর্ধশতকও। ২০২৩ এশিয়া কাপে আফগানদের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ১১২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

জাতীয় দলের ৭ বছর ক্যারিয়ারে বোলিংয়ে মূল দায়িত্ব পালন করেছেন মিরাজ। তবে দলের প্রয়োজনে নানা জায়গায় ব্যাট করতে হয়েছে তাকে৷ প্রতিবারই ক্রিকেটীয় মেধার পরিচয় দিয়ে গেছেন এ ব্যাটার। কখনো ওপেনার কখনো তিনে কখনো বা চারে আর শুরু করেছিলেন নম্বর আট পজিশনে। তবে মিরাজ এখন পুরোদস্তুর বোলার,ব্যাটার দুটোই। এক কথায় পিওর অলরাউন্ডার। যাকে বলা হচ্ছে সাকিবের উত্তরসূরি। স্বভাবতই ভারত বিশ্বকাপ শেষে সিনিয়রদের বিদায় ঘটবে। তাই দায়িত্ব নিতে হবে নতুনদের। যদিও সাকিবের শূন্যতা অপূরনীয় তবুও মিরাজের চোখে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি।

No comments