-->

Breaking News

ধর্ম নিরপেক্ষতার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী

তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি বক্তব্যের শুরুতেই বলেন- একটি ব্যতিক্রম ধর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। তিনি বলেন- আমি নিজেও একজন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। আমিও নামাজ পড়ি, ধর্ম পালন করি, রোজা রাখি, হজ্ব করি এবং যাকাত দেই। ইসলাম ধর্মে বলা আছে কাহারো ধর্ম পালনে বাঁধা দেওয়া যাবে না এবং কাউকে জোর করে ধর্ম্মান্তরিত করা যাবে না। স্ব-স্ব ধর্ম পালন করা প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা আছে এটা ইসলাম ধর্মের কথা। তিনি বলেন- বাংলাদেশের দারিদ্রতা বিমোচন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নতির জন্য উজ্জ্বল মানবিক জীবন যাপনের জন্য অনেক স্বপ্ন নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু তার লক্ষ্য মাত্রায় পৌছার জন্য দায়িত্ব আরম্ভ করেছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত '৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর জিয়া-এরশাদ-খালেদা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে চিনি মিনি করেছেন। তিনি  আরও বলেন- যদি হানাহানি, কাটাকাটি ও মারামারি এগুলো আর না হয় তাহলে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবো। আ'লীগ সরকার পনের বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে দেশে শতভাগ বিদ্যুৎয়ান হয়েছে। এখন ঘরে ঘরে বিদুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকার কারণে যারা চাকুরী পাচ্ছেনা তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপস এর মাধ্যমে ঘরে বসেই লক্ষ লক্ষ টাকা আয় রোজগার করছেন। তিনি বলেন- আন্তর্জাতিকভাবে দেশকে ধ্বংস করার জন্য একটি চক্র উঠে পড়ে লেগেছে কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে-ই আমাদের সফলতা সারাবিশ্বে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যাঁর কারণে আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে অতীতের অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা, আগামী উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার স্বার্থে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার আহবান জানান এলজিআরডি মন্ত্রী। 

তিনি বলেন- '৯১ সাল হতে '৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ১৭জন কৃষককে সারের জন্য গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ২০০১ সালে হিন্দু মেয়ে ও নারীদের ওপর নির্যাতন করাসহ আ'লীগকে যেখানে পেয়েছে সেখানেই হত্যা করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে বাঙালি জাতি ভিক্ষু ও মিসকিনে রূপান্তরিত হয়েছিল। ২০০১ হতে ২০০৮সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষের খাদ্য সংকট মোচন হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি, বিদুৎতায়ন ও কর্ম সংস্থান হয়নি, শিক্ষার অবস্থার উন্নতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। '৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সাড়ে ৩ বছর পর খাদ্য সংকট মুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ একটি উন্নতশীল দেশ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন- একটি দেশ উন্নতশীল দেশ হতে হলে অনেকগুলো শর্ত পূরণ করতে হয়। এরজন্য মাথাপিছু আয়, স্বাস্থ্যের অবস্থা, অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা করতে হয়। ১৯৯৬ সালে মাথাপিছুআয় ছিলো ৩২৯ ডলার আর বর্তমানে মাথাপিছুআয় ২৮২৪ ডলার। আমরা আর এ অবস্থায় থাকতে চাইনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বির্ণিমাণের স্বপ্ন দেখছেন। ৪১ সালে মাথাপিছুআয়ের লক্ষ্যমাত্রা হলো সাড়ে ১২ হাজার ডলার। আমরা আশা করছি এরআগেই আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবো, যদি আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে পারি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলার বাউরা গাদিসাইর বাংলাদেশ সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা পরমারাধ্য গুরুদেব শ্রীমৎ স্বামী আচার্য বিবেকানন্দ গোস্বামীর (এম.এ ট্রিপল সপ্ততীর্থ) ১০০তম শুভ জন্মজয়ন্তী ও নব-নির্মিত মন্দিরের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

তদুপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সূচীর মধ্যে ছিল সকাল ৮টা হতে যথাক্রমে শ্রীমদভগবদগীতা পাঠ, গঙ্গা আহবান, আনন্দ র‍্যালী, প্রদীপ প্রোজ্জ্বলন, নব-নির্মিত মন্দিরের শুভ উদ্বোধন, ধর্মীয় আলোচনা, দুপুরবেলা ভোগরান্তে মহাপ্রসাদ বিতরণ শেষে ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান "ভবের হাট" এবং সন্ধ্যায় গায়ত্রী জপ ও গুরু বন্দনা। এরপর শ্রী শ্রী গুরু পূজা ও পরমারাধ্য শ্রী গুরুদেবের জীবনী আলোকে আলোচনা ও রাস আরতি কীর্তন শেষে উৎসবে আগত ভক্ত ও দর্শণ্যার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানসূচীর সমাপ্তি ঘটে। 

এতে নব-নির্মিত মন্দিরের শুভ উদ্বোধন করেন- ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও দিনাজপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সন্মানিত ট্রাস্টি ও কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলাপ্রশাসক খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ দেবীদ্বার উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানিক চক্রবর্তী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মংনেথোয়াই মারমা, চন্দিনা উপজেলা চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি তপন বকসী, দেবীদ্বার উপজেলার চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, দেবীদ্বার পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম শামীম ও বাংলাদেশ সেবাশ্রম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহারাজ উৎপল ব্রহ্মচারী, গাদিসাইর বাংলাদেশ সেবাশ্রমের সভাপতি রঞ্জিত ধর, বাংলাদেশ সেবাশ্রম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুকেন সরকার, দেবীদ্বার বাংলাদেশ সেবাশ্রম মন্দির কমিটির সভাপতি ডাঃ প্রদীপ কুমার দে, গাদিসাইর বাংলাদেশ সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক বিনোদ সরকার, ১০০তম জন্ম জয়ন্তী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত দত্ত ও সদস্য রিপন দত্ত (হনুমান) ও নব-নির্মিত কমিটির সভাপতি শংকর সাহা, সহ-সভাপতি বাদল কর, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পংকজ সরকার ও সদস্য দুলাল চন্দ্র সরকার এবং জন্ম জয়ন্তী কমিটির সদস্য রতন চন্দ্র সরকার, রিপন সরকার ও মানিক সরকার এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চন্দন কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তাপস কুমার বকসী ও আইটি সম্পাদক এডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকারসহ প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ভক্ত ও দর্শক।

ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ সেবাশ্রম জন্মজয়ন্তী পরিষদের সভাপতি ও স্বর্ণ কুটির ডেভেলপারস্ (প্রাঃ) লিঃ এর চেয়ারম্যান প্রদীপ নন্দী।

No comments