-->

Breaking News

দেবীদ্বারে গণধর্ষণের শিকার শিশু শিক্ষার্থী, আটক-২


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ১১বছরের এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান ও শাহজালাল নামে দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করে রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা কোর্ট হাজতে চালান করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। একই সাথে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে অভিযুক্তদের হাজির ও ভিকটিম শিশুকে কুমেক হসপিটালে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ২২ধারায় জবারবন্দী রেকর্ড করা হয়। শুনানী শেষে আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন রীমা অভিযুক্তদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দেবীদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের আলীয়াবাদ এলাকায়। ওই দিন বিকেল ৩টায় স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু শিক্ষার্থী ছদ্মনাম সখিনা (১১) কৃষি জমিতে কর্মরত এক কৃষক আত্মীয়ের জন্য খাবার নিয়ে যায়। খাবার দিয়ে ফেরার পথে তাকে ডেকে নিয়ে প্রতিবেশী মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে সৌদী প্রবাসী হাবিবুর রহমান (৪৫) ও একই গ্রামের গাঙ্কুলপাড়ার অহিদ মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ি শাহজালাল (৪০) পার্শবর্তী জমির ডিপ টিউবয়েলের মেসিন ঘরে নিয়ে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। ভয়ে বিষয়টি তার মাকেও জানায়নি শিশুটি। একপর্যায়ে ব্যথায় অস্থির হয়ে তার কলেজ পড়ুয়া বড় বোনকে জানায়। তার বড় বোন তার মাকে জানালে লোকলজ্জা কে ওপেক্ষা করেই বিষয়টি দেবীদ্বার থানাপুলিশকে অবহিত করে।
 
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) খাদেমুল বাহার ও  উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় অভিযান চালিয়ে পৌর এলাকার পান্নারপুল থেকে হাবিবকে এবং আলিয়াবাদ ঘোষবাড়ির সামনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শাহজালালকে আটক করে থানাপুলিশ। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই ঘটনায় নির্যাতিতা শিশু সখিনার মা বাহরাইন প্রবাসীর স্ত্রী (৩৩) বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাবিব ও শাহজালালকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২০/২২৭।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) খাদেমুল বাহার জানান- শিশু গণধর্ষণের ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে দুই অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কোর্টহাজতে চালান ও ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

No comments