-->

Breaking News

পরকীয়া, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকান্ডে বাধা দেয়ায় গাজীপুরের গৃহবধূ হত্যার দুইমাস পর পলাতক স্বামী গ্রেফতার

তৌফিক সুলতান :
গাজীপুরে ঘটে এক ভয়াবহ অমানবিক ঘটনা মাসুদ রানা নামের এক ব্যাক্তি তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দুই মাস পর পলাতক স্বামী মাসুদকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।
শনিবার (২৬ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার আশুলিয়া থানার কোন্ডলবাগ এলাকায় একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মাসুদ রানা (৪৬)। তিনি জামালপুরের মেলান্দহ থানার টুপকার চর এলাকার মৃত অহেজ উদ্দিনের ছেলে।
রোববার (২৭ আগস্ট) দুপুরে র‍্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানানো হয়।র‍্যাব জানায়, প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে মাসুদ রানা পাঁচ বছর আগে হাফিজা আক্তার (২৮) নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তার তিনটি সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এর জের ধরে গত ২৭ জুন তাদের মধ্যে ফের ঝগড়া হয়। পরদিন মাসুদ রানা স্ত্রী হাফিজা আক্তারের ছোট ভাই সাব্বিরকে ফোন করে জানান, তার বোন অসুস্থ। দ্রুত গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার কামরাঙ্গাচালা এলাকার জনৈক সেলিমের বাড়িতে আসতে বলেন। সেখানে এসে তিনি বোনকে ঘরের ভেতর একটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

তদন্তে বেরিয়ে আসে পরকিয়া ও মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় হাফিজা আক্তারকে প্রথমে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক স্বামী মাসুদ রানা। গত দুইমাস সে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলো। 
এ ঘটনায় হাফিজার বাবা বাদী হয়ে মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে মাসুদ পলাতক ছিলেন। পরে গোপন খবর পেয়ে শনিবার (২৬ আগস্ট) রাতে সাভারের আশুলিয়া থেকে মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়।
কালিয়াকৈর থানাপুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠায়। পরবর্তী সময়ে মেডিকেল রিপোর্টে দেখা যায়, এটা শারীরিকভাবে আঘাত করে শ্বাসরুদ্ধজনিত হত্যা। পরে নিহতের বাবা হাসেম সিকদার বাদী হয়ে জামাতা মাসুদ রানাসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন সোহেল রানা। 

র‍্যাব বিষয়টি ছায়া তদন্ত শুরু করে শনিবার রাতে আশুলিয়া থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
র‍্যাব আরও জানায়, মাসুদের নামে অপহরণ, চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও দ্রুত বিচার আইনে আগেও তিনটি মামলা রয়েছে।
x

No comments